স্বাস্থ্য

মুগদা, কুর্মিটোলা, ঢামেক, বিএসএমএমইউতে কোনো আইসিইউ খালি নেই

সৈকত ভৌমিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রোগী ভর্তির চাপ বাড়ছে বিভিন্ন হাসপাতালে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমানে রাজধানীতেই ৫০ শয্যা মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ৫০০ শয্যা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ইউনিট-২) ও বার্ন ইউনিটসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) কোনো আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) বেড ফাঁকা নেই। সেইসঙ্গে রোগীতে পূর্ণ রাজধানীর কিছু বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ বেডও।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, দেশে ২৫ হাজার ৯৫৪টি নমুনা পরীক্ষায় তিন হাজার ৫৫৪ জনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। যা নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞতিতে দেখা যায়, কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত রাজধানীর কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ১৬৯ শয্যার মাঝে জেনারেল বেডে ভর্তি ৭৬ জন। তবে এখানে ১৬টি আইসিইউ’র মধ্যে মাত্র একটি খালি আছে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ২৭৫ শয্যার জেনারেল বেডে ভর্তি ৩৯৩ জন, যা ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ১১৮ বেশি। এখানে ১০টি আইসিইউ বেড পরিপূর্ণ। শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে ৬০টি জেনারেল বেডের মথ্যে ২০টি ভর্তি থাকলেও এখানে আইসিইউ বেড খালি আছে আটটি।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল (ছয়টির সবকটি), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (১০টির সবকটি), মুগদা জেনারেল হাসপাতাল (১৪টি শয্যার সবকটি), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (১৬টি শয্যার সবকটি) সব আইসিইউয়ে রোগী ভর্তি রয়েছে। এছাড়া রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের ১৫টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে দুটি বেড ফাঁকা রয়েছে। তবে এটি বিশেষায়িত হাসপাতাল, যা পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের চিকিৎসা ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে, অধিদফতরের তালিকাভুক্ত বেসরকারি নয়টি হাসপাতালের ১৬৪টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি আছেন ১১৮ জন, শয্যা ফাঁকা রয়েছে মাত্র ৪৬টি। অর্থাৎ ঢাকা শহরের তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মোট ২৬৭টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে রোগী ভর্তি আছেন ২১০ জন। আর শয্যা ফাঁকা রয়েছে মাত্র ৫৭টি।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম মহানগরীর তালিকাভুক্ত সরকারি চার হাসপাতালে আইসিইউ রয়েছে ২৫টি, তার মধ্যে রোগী ভর্তি আছেন ১৫ জন। বেসরকারি তিনটি হাসপাতালের ২০টি শয্যায় রোগী ভর্তি আছেন ১০ জন।

অন্যদিকে সারাদেশে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ রয়েছে ৫৪৯টি। এর মধ্যে রোগী ভর্তি আছেন ৩০৬ জন। ফাঁকা রয়েছে ২৪৩টি বেড।

বিজ্ঞাপন

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতি খারাপে দিকে। আর এমন অবস্থায় যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টের পাওয়া যাওয়ার সংবাদ আশঙ্কাজনক। একইসঙ্গে দেশের মানুষ যদি এখনও স্বাস্থ্যবিধি এড়িয়ে চলে, মাস্ক না পরে তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। তখন হাসপাতালে জায়গা দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সারাবাংলাকে বলেন, ‘সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট একটা কারণ হতে পারে। তবে মূল কারণ কখনোই না। এক্ষেত্রে সংক্রমণ বাড়ার জন্য মূলত দায়ী আমাদের জীবনাচরণে স্বাস্থ্যবিধিকে গুরুত্ব না দেওয়া। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনসমাগম এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এই মুহূর্তে খুবই জরুরি এবং একইসঙ্গে মাস্ক পরাটাও। ভ্যাকসিন দেওয়ার পড়েও অনেকে রিল্যাক্স হয়ে ঘুরছে। এটাও বিপদজনক হয়ে উঠছে আমাদের জন্য। কারণ, ভ্যাকসিন দিলেই সবার মাঝে অ্যান্টিবডি গড়ে উঠবে আর করোনা সংক্রমণ হবে না- এমনটা কিন্তু কোথাও বলা হয় নাই। সুতরাং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।’

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা সারাবাংলাকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারিভাবেও চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে কিছু প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বার্ন ইনস্টিটিউটকে কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড করা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে আমাদের স্বাস্থ্যবিধিটা বেশি করে মানতে হবে, যাতে হাসপাতালে কাউকে না আসতে হয়।’

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক সারাবাংলাকে বলেন, ‘মানুষের মাঝে এখন অনেক রিল্যাক্স ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে বাড়ছে সংক্রমণও। আমরা যদি এখনই সতর্ক না হই ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলি তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কারণ আমাদের সীমিত সামর্থ্যে আমরা গতবার সফলভাবে মোকাবিলা করেছিলাম। এবারও করতে চাই। কিন্তু যদি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে তবে হাসপাতালগুলো জায়গা দেবে কীভাবে?’ এ জন্য তিনি জনগণের প্রতি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

সারাবাংলা/এসবি/পিটিএম


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button