শিক্ষা

রসায়নে ‘গণহারে ফেল’, সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

তিতুমীর কলেজ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের ২০১৮-২০১৯ সেশনের রসায়ন বিভাগের প্রথম বর্ষ বিএসসি অনার্স নিয়মিত, অনিয়মিত ও মান উন্নয়ন পরীক্ষার ফলপ্রকাশ হয়েছে। এই পরীক্ষায় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্নভাবে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২২ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেটের অনুমোদনসাপেক্ষে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বাহালুল হক চৌধুরীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে সাময়িকভাবে ফল ঘোষণা করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০১৯ সালের প্রথম বর্ষ  বিএসসি অর্নাস নিয়মত, অনিয়মিত, মান উন্নয়নসহ মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ২৫ জন। পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন ৮৩১ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৩৬৫ জন।

‘গণহারে ফেল’ দেখার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ফলাফলে অসঙ্গতির অভিযোগ এনে ফল পুনঃবিবেচনার দাবি তুলছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

২০১৯-২০২০ সেশনের আরিফ হোসাইন রাজন নামে এক শিক্ষার্থী সারাবাংলাকে বলেন, পরীক্ষার প্রায় একবছর পর ফল প্রকাশিত হয়েছে। আমরা আমাদের প্রত্যাশিত ফল পাইনি। আমাদের ফল এত খারাপ আসার কথা ছিল না। ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় আমাদের ফেল করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা প্রত্যাশার একেবারেই বাইরে।

একই সেশনের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের বিভাগের অনেক শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট ১.৯৯ পয়েন্টে এসেছে (৪ পয়েন্টের মধ্যে)। যারা ২ পয়েন্ট পেয়েছে, তাদের উত্তীর্ণ করা হয়েছে। কিন্তু যারা ১.৯৯ পেয়েছে, তাদের বিবেচনা করা হবে কি না, এটা নিয়ে অনেকেই চিন্তায় রয়েছে। এটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন রয়েছে শিক্ষকদের কাছে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থী তাসরিফা জান্নাত সারাবাংলাকে বলেন, আমাদের অনেকের পরীক্ষার তুলনায় ফলাফল আশানুরূপ আসেনি। আমাদের খাতা যত কড়াকড়ি করে দেখা হয়েছে, আমাদের সাত কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরও তেমন গুরুত্ব দেওয়া হোক। কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি নির্দেশনা এসেছে, আমাদের ফরম পূরণ ও ভর্তি একসঙ্গে করতে হবে। এটা শিক্ষার্থীদের ওপর একটি অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ। সব মিলিয়ে বলা যায়, নানাভাবেই আমাদের ওপর চাপ দেওয়া হয়েছে। এটা কাম্য নয়।

এসব অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে সরকারি তিতুমীর কলেজের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুর মান্নান সারাবাংলাকে বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা মৌখিক বা ব্যবহারিক নয়, তত্ত্বীয় অংশেই ফল খারাপ করেছে বেশি।

বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক মান্নান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট খারাপ হওয়ার কারণ কী বা তারা কোথায় ভুল করেছে, তা তো আমরা জানি না। আমাদের এখানে পুরো রেজাল্ট শিট পাঠানো হয় না। তবে আমরা ধারণা করছি, শিক্ষার্থীরা রেজাল্ট খারাপ করেছে তত্ত্বীয়তে। তারা প্রথম বর্ষে মনোযোগী হয় না। দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করে অনেকেই। ফলে কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই পরীক্ষা দিতে বসে যায়। তবুও কোনো শিক্ষার্থীদের যদি রেজাল্ট নিয়ে অভিযোগ থাকে, এ সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।’

অন্যদিকে ফলপ্রকাশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফলাফল নিয়ে অসঙ্গতি বা ভুল-ত্রুটি থাকলে ফলাফল সংশোধন বা বাতিল করার সুযোগ রয়েছে। ফলাফল সংক্রান্ত অভিযোগ নিজ নিজ কলেজের বিভাগের মাধ্যমে ঢাবিতে জানাতে হবে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীরা অবশ্য বলছেন, সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অধিভুক্তির চার বছরে ফলপ্রকাশে এমন ঘটনা নতুন নয়। প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের এভাবে ক্ষোভ জানিয়ে ও অভিযোড় করে কাঙ্ক্ষিত ফল আদায় করতে হয়।

সারাবাংলা/এনএসএম/টিআর


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button