অর্থ-বাণিজ্য

খাদ্যশস্যের মজুত বাড়াতে আমদানিতে জোর দিচ্ছে সরকার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মহামারি করোনাভাইরাস আর দফায় দফায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে এবার বোরো, আমন দুই মৌসুমেই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আশানুরূপ খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে পারেনি সরকার।  এ কারণে খাদ্যশস্যের মজুত তলানিতে ঠেঁকেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সাড়ে দশ লাখেরও বেশি চাল আমদানি চলমান রেখেছে। আগামী অর্থবছরে চাল আমদানির আরও বাড়াতে চায় সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, সদ্য শেষ হওয়া আমন মৌসুমে ৬ লাখ টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সংগ্রহ করা গেছে মাত্র ৬৮ হাজার লাখ ৯৯৭ মেট্রিক টন। ৫০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও মাত্র ৪ হাজার ৮৫৯ মেট্রিক টন সংগ্রহ করা হয়েছে। এর আগে বোরো মৌসুমে সাড়ে ২১ লাখ মেট্রিক টন বোরো খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও মাত্র ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪৫ মেট্রিক টন শস্য সংগ্রহ করতে পেরেছে সরকার। এদিকে সরকারের খাদ্যশস্যের মজুতও কমে আসছে। গত ১৮ মার্চ পর্যন্ত মজুতের পরিমাণ ছিল ৫ দশমিক ৫ লাখ মেট্রিক টন। এরমধ্যে ৪ দশমিক ৭৮ লাখ মেট্রিক টন চাল আর ০ দশমিক ৭৯ মেট্রিক টন গম। আর এরইমধ্যে যে সাড়ে দশ লাখ টন চাল আমদানি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে সে চাল বাজারে আসতে শুরু করেছে।

গেল বছর খাদ্যশস্য সংগ্রহ এবং বাজার পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে যে বেগ পেতে হয়েছে তা আসছে অর্থবছরে যেন না হয় সে প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গেল অর্থ বছরের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে আগামী অর্থবছরে সব উৎস থেকে ৩৩ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে চায় খাদ্য মন্ত্রণালয়। আর এ পরিকল্পনায় আমদানি বাড়ানোতেই জোর দেওয়া হচ্ছে বেশি। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর কার্যক্রম, যেমন ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আওতায় চাল বিতরণ বাড়ানোর চিন্তাও করা হচ্ছে। তাই আগামী অর্থবছরের জন্য বাড়তি বরাদ্দ চায় খাদ্য অধিদফতর।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, যে পরিমাণ চাল এবার আমদানি করা হচ্ছে তার বেশিরভাগ ভারত থেকে আসছে। তবে একক বাজারের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে ভারতের সঙ্গে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকেও চাল আমদানি করবে সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এতে ঝুঁকি থাকবে না। কারণ একই দেশ থেকে শুধু চাল নয়, যেকোনো পণ্য আমদানি করলে ঝুঁকি থাকে। সেজন্য এই তিন দেশ থেকে চাল কেনার জন্য মন্ত্রিসভা কমিটিরও অনুমোদন পাওয়া গেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে যে মজুত ব্যবস্থা রয়েছে তাতে ২০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি রাখা সম্ভব না। তাই এর বেশি খাদ্যশস্য মজুতের চিন্তা করা হয়নি এতোদিন। জানা গেছে, আসছে অর্থবছরে বেশ কয়েকটি সাইলো ও গুদামের নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছে। এগুলো উদ্বোধন হলে মজুতের সমস্যা মিটে যাবে।

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, দেশে খাদ্য সংকট নেই। তবে যেটুকু ঘাটতি তৈরি হয়েছিলো তা পূরণ হয়েছে আমদানি করা চাল বাজারে আসাতে। গেল বছর মজুত নিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা কাজে লাগিয়ে মজুত বাড়াতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ এবং আমদানি দুই পর্যায় থেকেই খাদ্যশস্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া জোরদার রয়েছে।

সারাবাংলা/জেআর/এসএসএ


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button