জাতীয়

‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উদযাপন যেন আনুষ্ঠানিকতা-সর্বস্ব না হয়’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী একযোগে উদযাপন করছে জাতি। এই উদযাপন যেন আনুষ্ঠানিকতা সর্বস্ব না হয়, সেই আহ্বান জাতির প্রতি রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন মাহেন্দ্রক্ষণে দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার শপথ নতুন করে নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন- ‘শেখ মুজিব একটি দেশ, একটি জাতিরাষ্ট্রের স্রষ্টা’

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। তবে এই উদযাপন যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা-সর্বস্ব না হয়। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে আমাদের দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে নতুন করে শপথ নিতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, এবারের স্বাধীনতা দিবস অন্যান্য বছরের স্বাধীনতা দিবসের মতো নয়। এবার স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হলো। এই দিন আনন্দে অবগাহনের দিন।

বিজ্ঞাপন

এসময় সবাইকে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা আবৃত্তি করেন প্রধানমন্ত্রী—

আনন্দধ্বনি জাগাও গগনে।
কে আছ জাগিয়া পূরবে চাহিয়া,
বলে ‘উঠ উঠ’ সঘনে গভীর নিদ্রামগনে।
হেরো তিমির রজনী যায় ওই, হাসে ঊষা নব জোতির্ময়ী-
নব আনন্দে, নব জীবনে,
ফুল্ল কুসুমে, মধুর পবনে, বিহগ কলকূজনে।
সবার সুস্থতা কামনা করে ভাষণ শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, ভাষণে গত একদশকে দেশের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, স্বাধীনতার অর্ধশত বছর অতিক্রম করা জাতীয় জীবনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক। আমাদের জন্য এই সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব আরও বর্ণময় হয়েছে এ জন্য যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে সরকার পরিচালনা শুরু করে। বাংলাদেশ সম্পর্কে সব নেতিবাচক ও নিরাশাবাচক ভবিষ্যদ্বাণী অসার প্রমাণিত করে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে গর্বিত দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন- ‘আসুন, ভেদাভেদ ভুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সোনার বাংলা গড়ে তুলি’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এক দশক আগেও বাংলাদেশকে যেখানে দারিদ্র্য আর অনুন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হতো, আজ উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা সেই বাংলাদেশকেই দারিদ্র্য-জয় ও উন্নয়নের আদর্শ মডেল হিসেবে তুলে ধরছেন।

২০০৫-০৬ অর্থবছর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে কয়েকটি সূচকের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ বছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৫৪৩ মার্কিন ডলার। বর্তমানে তা ২০৬৪ ডলার হয়েছে। ওই সময়ে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ। বর্তমানে দারিদ্র্যের হার কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে। জিডিপি’র আকার ৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৭ কোটি থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৭৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ এক বিলিয়ন ডলারেরও কম। এখন এই রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৫-০৬ বছরে বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান অর্থবছরের আমাদের বাজেটের আকার ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। মানুষের গড় আয়ু ২০০৫-০৬ বছরের ৫৯ বছর থেকে বেড়ে ২০১৯-২০ সালে দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৬ বছরে। শিশু মৃত্যুহার হার কমে প্রতি হাজারে ৮৪ থেকে ২৮ এবং মাতৃমৃত্যু হার প্রতি লাখে ৩৭০ থেকে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ওই সময় সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৭৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি। দানাদার শস্যের উৎপাদন ২০০৫-০৬ বছরের ১ কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে বর্তমানে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৪ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট থেকে ২৪ হাজার ৪২১ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী জনসংখ্যা ৪৭ থেকে ৯৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button