বিনোদন

মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান করেছিল চারটি প্রামাণ্যচিত্র

আহমেদ জামান শিমুল

এ দেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে হাতে ৫০ এর মত চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। অথচ হওয়া উচিত ছিল শতাধিক ছবি। দেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি নির্মিত হয়েছিল ১৯৭২ সালে ‘ওরা এগারজন’।

বিজ্ঞাপন

চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ছবিটি নির্মাণের আগেই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে নির্মিত হয়েছিল চারটি প্রামাণ্যচিত্র। এগুলো হচ্ছে-জহির রায়হানের ‘স্টপ জেনোসাইড’ ও ‘এ স্টেট ইজ বর্ন’, আলমগীর কবিরের ‘লিবারেশন ফাইটার্স’ ও বাবুল চৌধুরীর ‘ইনোসেন্ট মিলিয়নস’। এ প্রামাণ্যচিত্রগুলো আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি বিশ্ববাসীর সমর্থন আদায়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল। করেছিল মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান।

জহির রায়হানের ‘স্টপ জোনাসাইড’ তো রীতিমত সারা পৃথিবীতে আলোড়ন তৈরি করেছিল। তিনি যুদ্ধের গণহত্যা, প্রাণ বাঁচার আশায় অসহায় মানুষের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় গ্রহণের বাস্তব ও মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে এনেছিলেন। ওনার ‘অ্যা স্টেট ইজ বর্ন’ নির্মিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটি নিয়ে।

বিজ্ঞাপন

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ এ দেশের কৃষক শ্রমিক, ছাত্র, জনতাকে মুক্তিযুদ্ধের উদ্বুদ্ধ করেছিল। ঐতিহাসিক ভাষণের সাউন্ডট্র্যাককে ওভারল্যাপ করে আলমগীর কবির নির্মাণ করেছিলেন ‘লিবারেশন ফাইটার্স’।

বাবুল চৌধুরীর ‘ইনোসেন্ট মিলিয়নস’ও অনেক আলোচিত প্রামাণ্যচিত্র। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদররা শুধু এ দেশের সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে ক্ষান্ত ছিল না। তারা শিশুদেরকেও নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। এ চিত্রই তুলে এনেছিলেন বাবুল চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

চলচ্চিত্র গবেষক ও সাংবাদিক অনুপম হায়াত জানান, কিংবদন্তি জহির রায়হান এ চারটি প্রামাণ্যচিত্রকে নামকরণ করেছিলেন ‘জাতীয় মুক্তিযুদ্ধে চলচ্চিত্র’। তিনি বলেন, ‘এসব ছবি নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানিদের গণহত্যা সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে অবহিত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ত্বরান্বিত করা। এসব চিত্রের বিষয় ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতা, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, শরণার্থীদের দেশত্যাগ, আশ্রয়শিবিরের দুঃখ-কষ্ট-মৃত্যু, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অভিযান এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রূপরেখাকেন্দ্রিক।’

সারাবাংলা/এজেডএস


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button