জাতীয়

‘মুজিববর্ষে ১০ দিনের আয়োজন বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ১৭ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ১০ দিনের আয়োজনকে বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বিজ্ঞাপন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এই তথ্য জানান। শনিবার (২৭ মার্চ) ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে প্রেস কনফারেন্সটি অনুষ্ঠিত হয়।

গত ১০ দিনে দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান বাংলাদেশ সফর করেছেন। এছাড়া বিশ্বের ৬৫ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে বার্তা পাঠিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রেস কনফারেন্সে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরে আমরা কী পেলাম?

জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এ সফর আমাদের জন্য গর্বের ও গৌরবের। শুধু ভারত নয় বিগত ১০ দিনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা বাংলাদেশ সফর করেছেন। সে সঙ্গে ষাটেরও অধিক দেশ বাংলাদেশকে স্বাধীনতার সূর্বণজয়ন্তীতে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। তারা আমাদের অভাবনীয় সাফল্যে অভিভূত বলেও জানিয়েছেন। সে সঙ্গে আমাদের সঙ্গে কাজ করতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গত ১০ দিনের আয়োজন আমাদের বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য।’

বিজ্ঞাপন

ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের মধ্যে যেসব অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে তার সবগুলোই দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ সফরের মধ্য দিয়ে আমাদের দুদেশের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। হৃদয়ের এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে আমরা দুই দেশ মিলে এ অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করব।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সব মিলিয়ে আমাদের দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে৷ আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ সফরে আসার জন্য। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য। সামনের দিনে বাংলাদেশ-ভারত সামিট হবে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিষয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলাপ হয়েছে। ভারত মনে করছে রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়া উচিৎ।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নরেন্দ্র মোদির এ সফরে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর অব ইন্ডিয়ার (আইএনসিসি) মধ্যে সহযোগিতা, বাণিজ্য বিষয়ক সহযোগিতা ফ্রেমওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশ-ভারত ডিজিটাল সার্ভিস অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেইনিং (বিজিএসটি) সেন্টারের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য, কোর্সওয়ার অ্যান্ড রেফারেন্স বুক সরবরাহ এবং প্রশিক্ষণ বিষয়ক এবং রাজশাহী কলেজ মাঠ এবং আশপাশের এলাকায় খেলাধূলার সুবিধা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, দুই প্রধানমন্ত্রী ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফর পাওয়ার ইভাকুয়েশন ফ্যাসিলিটিজ অব রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং আশুগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভারতীয় সেনাদের স্মৃতি ফলকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সে সঙ্গে ঢাকা ও নতুন জলপাইগুড়ির মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন মিতালী এক্সপ্রেস, কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রবীন্দ্র ভবনের সম্প্রসারিত উন্নয়ন কাজ, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন তিনটি সীমান্ত হাটের উদ্বোধন করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

সারাবাংলা/জেআইএল/এমআই


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button