জাতীয়

বঙ্গবন্ধু গেমসের উদ্বোধন, আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিংয়ের আশ্বাস

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আগামীতে অলিম্পিক গেমস বিশ্বের যেখানেই হবে বাংলাদেশ যেন সেখানে অংশগ্রহণ করার মতো নিজেকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পারে সেভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় ভবিষ্যতে সেইভাবেই কয়েকটি গেমস ঠিক করে নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিংয়েরও ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসের উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে যুক্ত হয়ে উদ্বোধন করেন।

১০ দিনব্যাপী এই ক্রীড়াযজ্ঞে ৯ জেলা শহরে ৩১টি ডিসিপ্লিনে ৩৭৮টি সোনার পদকের (মোট পদক ১২৭১) জন্য লড়াই করবেন ৫ হাজার ৩০০ ক্রীড়াবিদ। ঢাকা ছাড়াও খেলা হবে অন্যান্য জেলা শহরে। এই গেমসের মশাল প্রজ্জ্বালন করেন গলফার সিদ্দিকুর রহমান ও ২০১৬ এসএ গেমসে দু’টি স্বর্ণপদক জয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা।

বিজ্ঞাপন

ভার্চুয়ালি বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকের সুরক্ষায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন সীমিত করেছে আয়োজক বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)।

বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসের মশাল প্রজ্জ্বলন করেছেন টুঙ্গিপাড়া থেকে। যে মাটিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আর যে মাটিতে তিনি ঘুমিয়ে আছেন। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসের মশাল প্রজ্জ্বলিত হয়ে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়— এজন্য আয়োজক সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন জাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠার দিকটি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো দেশে প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের উন্নতি করলে হলে সবদিকেই আসলে উন্নতি হওয়া দরকার। খেলাধূলা একান্তভাবে অপহিার্য। বিশেষ করে আমাদের ছোট শিশু থেকে শুরু করে যুবক-তরুণ তাদের জন্য একান্তভাবে অপরিহার্য। আর খেলাধুলার প্রতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সবসময় আন্তরিকতা ছিল এবং তিনি সব সময় উৎসাহিত করতেন।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা ১৫ আগস্ট জাতির পিতার নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনা স্মরণ করে বলেন, ‘২১ বছর পর আমরা সরকারে আসি। তারপর থেকে আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের দেশের যুবসমাজকে কিভাবে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা যায় এবং সব ধরনের খেলাধুলার দিকেই নজর দিয়েছি। এমনকি আমাদের দেশীয় লেখাধুলা সেগুলিকেও আমরা বাদ দেয়নি। আমাদের একটাই লক্ষ্য আমাদের ছেলেমেয়েরা সবার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকুক। আমরা সমগ্র বাংলাদেশে প্রত্যেকটা উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম করে দিচ্ছি। তাছাড়া আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট, ফুটবলসহ অন্যান্য সব ধরনের খেলা যাতে হতে পারে তার জন্য আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করছি।’

বিজ্ঞাপন

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার কারণে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে বঙ্গবন্ধু গেমসের উদ্বোধন করার সৌভাগ্যের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও খেলাধুলা পছন্দ করি এবং সবসময় নিজে আমি মাঠে উপস্থিত থাকতে চেষ্টা করেছি অতীতে। কিন্তু এবার পারলাম না। এটা সত্যি আমার জন্য খুব দুঃখজনক। করোনার কারণে সবকিছুতেই একটু সমস্যা দেখা দিয়েছে।’

যে ৩১টা ডিসিপ্লিনে যে খেলাগুলি অনুষ্ঠিত হবে, এসময় যেন সবাই স্বাস্থ্য সুরক্ষাটা মেনে চলে এবং যাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হয়, সেদিকে নজর রাখার জন্য আয়োজক ও অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট সবাইকে নজর দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এনআর/এমও


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button