রাজনীতি

হেফাজতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে: শেখ সেলিম

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, হেফাজতে ইসলাম আসলে তারা ইসলামের শত্রু। যারা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে তাণ্ডব চালিয়ে জঘন্য কাজ করেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ও জনগণের শত্রু। এমনকি তারা ইসলামেরও শত্রু। সরকারকে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে সহিংসতায় জড়িত হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিচারের দাবি করেন তিনি। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে কঠোর হওয়ার অনুরোধও করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৩ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে এসব কথা বলেন শেখ সেলিম। এসময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্ব করছিলেন।

শেখ সেলিম বলেন, বিএনপি এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতা করছে। কিন্তু মোদি যখন প্রথম বাংলাদেশে এসেছিল তখন খালেদা জিয়া দেখা করে তার হাত আর ছাড়তে চায় না। তখন মোদি ভালো ছিল, এখন কেন খারাপ হয়ে গেল। হেফাজতে ইসলাম জঙ্গি তৎপরতায় লিপ্ত হয় আর বিএনপি, জামায়াত তাদের সমর্থন করে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এই জঙ্গিরা তলোয়ার নিয়ে যেভাবে ঘোড়ার ওপর উঠে পিছনে শত শত জঙ্গিদের এবং সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র দিয়েছে সাধারণ মানুষকে হত্যা করার জন্য। স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য তাণ্ডব চালিয়েছিল। তাদের ছবি দেখলে মনে হয়— প্রাচীনকালের কোনো যুদ্ধে যাচ্ছেন।

সেলিম আরও বলেন, তাদের মনে রাখতে হবে এটা তালেবান বা পাকিস্তান রাষ্ট্র নয়, সন্ত্রাসী জঙ্গিদের বাংলার মাটিতে কোনো স্থান নেই। স্বাধীন দেশে এভাবে চলতে পারে না। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর জন্য আমরা অনেক কিছু সহ্য করে গেছি আর কোনো কিছু সহ্য করা হবে না।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ২৭ মার্চ বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত চট্টগ্রামে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। তারা শুধু আক্রমণ করে নাই ১০ জন পুলিশকে বোমা মেরে আহত করেছে। পুলিশের গাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আক্রমণ করে পুড়িয় দিয়েছে।

তিনি বলেন, যারা স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তাণ্ডব চালায়, যারা এদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারে না, তাদের এদেশে থাকার কোনো অধিকার নাই। আমাদের এই সুন্দর অনুষ্ঠানকে কলঙ্কিত করার জন্য বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে (বিএনপি-জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী হেফাজতে ইসলাম) হাটহাজারীতে তাণ্ডব চালিয়েছে। তারা থানায় আক্রমণ করে, পুলিশের ওপর আক্রমণ করে, পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়েছে। ভূমি অফিস এবং বিভিন্ন স্থাপনা  জ্বালিয়ে দিয়েছে। স্বাধীনতার প্রতি যারা বিন্দুমাত্র বিশ্বাস রাখে তারা কোনোদিন এই জঘন্য কাজ করতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

শেখ সেলিম আরও বলেন, গত ২৭ মার্চ তারা ব্রাহ্মণবাড়ীয়া রেলস্টেশন, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। এসপি অফিস ও থানায় আগুন দেয়, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল পর্যন্ত ভাঙচুর করে এবং আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রেসক্লাবে আগুন দিয়েছে। প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াজুদ্দিন জামিলসহ ১১ জন সাংবাদিককে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শোভনের বাড়ীতে আগুন দিয়েছে এবং কোরআন শরীফকে পুড়িয়েছে। হেফাজতে ইসলাম আসলে ইসলাম বিরোধী। ইসলাম কেবল হেফাজত করতে পারে আল্লাহ, জঙ্গিদের দ্বারা ইসলাম হেফাজত হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি নিয়ে তা বন্ধ করেছিল। কেউ স্বাধীনতার বিশ্বাস করলে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি বন্ধ করতে পারে না। বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত ষড়যন্ত্র করেছিল। বিএনপি স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতি সৌধেও যায়নি। এরা ৭১ এর পরাজিত শত্রু। এখন সরকার পতনের নামে হুমকি দিচ্ছে। কিছু দিন আগে বিএনপির নেতা মিনু প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দিয়েছেন। এর মানে জিয়া যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল বিএনপি সেটা মনে করিয়ে দিল।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এএইচএইচ/এনএস


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button