স্বাস্থ্য

দেশে দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট

সৈকত ভৌমিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ব্রাজিলের ভ্যারিয়েন্ট। এই ভ্যারিয়েন্টগুলো ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ বাড়িয়ে চলেছে। শুধু মার্চেই পাওয়া গেছে এই ভ্যারিয়েন্টগুলোর অধিকাংশ। তবে মার্চের আগেও এই দুই দেশের ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে জিআইএসএইডে (গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটা)। যা নিয়ে সারাবাংলায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞাপন

গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটা (জিআইএসএইড) জার্মান সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিতে একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে করোনাভাইরাসের সবধরনের জিনোম সিকুয়েন্সের তথ্য জমা রাখা হয়। এখান থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী দেখা যায়, শুধু ঢাকা বা চট্টগ্রামে নয় বরং দেশের অনেক জায়গায় পাওয়া গেছে যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট।

এছাড়াও সম্প্রতি দেশের জিনোম সিকোয়েন্স করা একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশে ব্রাজিলের ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য জানা গেছে। মার্চ মাসেই এই ভ্যারিয়েন্টগুলো দেশে পাওয়া যায়। এর আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ার কথা জানা যায়।

বিজ্ঞাপন

জিআইএসএইড’র তথ্যানুযায়ী দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট {B.1.351 variant (20H/501Y.V2)}:

সম্প্রতি জিআইএসএইড’র আপলোড করা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২৭ ফেব্রুয়ারি সংগ্রহ করা একজনের নমুনা সিকোয়েন্সিং করে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। এই নমুনাটি চট্টগ্রাম বিভাগের খাগড়াছড়ি থেকে সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিভাগের মানিকগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করা একজনের নমুনা সিকোয়েন্সিং করেও পাওয়া গেছে একই ভ্যারিয়েন্ট। ৯ মার্চ ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর থেকে সংগ্রহ করা একজনের নমুনা সিকোয়েন্সিংয়ে ধরা পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট। এছাড়া ১১ মার্চ ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা এক নারীর নমুনা সিকোয়েন্সিংয়ে পাওয়া যায় একই ভ্যারিয়েন্ট। এগুলোর সবই ২৫ মার্চ জিআইএসএইড আপলোড করেছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম দক্ষিণ আফ্রিকার এই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায় ২৪ জানুয়ারির নমুনা পরীক্ষায়। যার তথ্য জিআইএসএইডে আপলোড করা হয় চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি।

জিআইএসএইডে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি এক নারীর নমুনা সিকোয়েন্সিং করে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট GH/501Y.v2 (B.1.351) পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের ল্যাব থেকে এই নমুনা পাঠানো হয় বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর)। সেখানে সিকোয়েন্সিং করে দেশে এই নতুন ধরনের ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ার তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

জিআইএসএইড’র তথ্যানুযায়ী দেশে যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট { B.1.1.7 variant (20I/501Y.V1) }:

দেশে ৯ জানুয়ারি সিলেট থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সিকোয়েন্সিং করে যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ার তথ্য জমা হয়েছে জিএসএইডে। এক নারীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সিকোয়েন্সিং করে এই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায় সেখানে বলে উল্লেখ করা হয়। ১১ জানুয়ারি একজন পুরুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সিকোয়েন্সিং করে যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। ২৫ জানুয়ারি একজনের নমুনা সিকোয়েন্সিং করেও যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতির বিষয়ে জিএসএইডে তথ্য জমা হয়েছে। এই তিনটি নমুনা সিলেট বিভাগ থেকে সংগ্রহ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা করা একজন পুরুষের নমুনা সিকোয়েন্সিং করে যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ৯ মার্চ একজন তরুণের নমুনা ও ১৪ মার্চ একজন ঢাকা থেকেই সংগ্রহ করা আরেকটি নমুনা সিকোয়েন্সিং করে যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ২৫ মার্চ এই সিকোয়েন্সিংগুলোর তথ্য জিএসএইডে জমা দেওয়া হয়। এগুলো চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সিকোয়েন্সিং করার পরে আপলোড করা হয়েছে জিআইএসএইডে।

এর আগে দেশে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সিলেট থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সিকোয়েন্সিং করে যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়। ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি সিলেট থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সিকোয়েন্সিং করে পাওয়া গেছে যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট। এই দুইটি সিকোয়েন্স জানুয়ারির ৩১ তারিখ জিএসএইডে আপলোড করা হয়। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি দেশে আইসিডিডিআর,বি’র গবেষকরা সিকোয়েন্সিং করে যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ার তথ্য জানায়। যা জিআইএসএইডে জমা দেওয়া হয় ২৭ জানুয়ারি।

জিআইএসএইডে প্রকাশের অপেক্ষায় আরও সিকোয়েন্সিংয়ের ফলাফল

দেশে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ গতিবিধি বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সিকোয়েন্সিং করা হচ্ছে। তবে এখনো অনেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জিআইএসএইডে সিকোয়েন্সিং ডাটা সাবমিট করা হয়নি। এছাড়াও কিছু ডাটা সম্প্রতি সাবমিট করা হয়েছে, যা খুব দ্রুতই প্রকাশিত হবে বলে জানা গেছে। এই সিকোয়েন্সিংগুলোতেও দেখা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি।

২০২১ সালের ১৪ মার্চ ঢাকার এক পুরুষের কাছ থেকে নেওয়া নমুনা সিকোয়েন্সিং করে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ১৬ মার্চ ঢাকার এক নারীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সিকোয়েন্সিং করেও একই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়। ১৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সিকোয়েন্সিং করে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। এছাড়া ১৮ মার্চ ঢাকার এক তরুণের কাছ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সিকোয়েন্সিং করে একই ভ্যারিয়েন্ট চিহ্নিত হয়। ২০ মার্চ নারায়ণগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করা নমুনায়ও ওই ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়। একইদিন লক্ষ্মীপুর জেলার এক পুরুষের নমুনা সিকোয়েন্সিংয়ে ধরা পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট।

২০ মার্চ ঢাকার এক পুরুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সিকোয়েন্সিং করে যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ২১ মার্চ ঢাকা বিভাগের মাদারীপুর জেলার এক পুরুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা নমুনার সিকোয়েন্সিং করে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এদিন ঢাকা থেকে নেওয়া এক পুরুষের নমুনা সিকোয়েন্সিংয়েও ধরা পড়ে একই ভ্যারিয়েন্ট। একই দিন ঢাকার এক তরুণ ও এক নারীর নমুনা সিকোয়েন্সিং করে পাওয়া যায় ওই ভ্যারিয়েন্ট। ২২ ও ২৩ মার্চ ঢাকায় দুজনের নমুনায়ও একই ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

২৫ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার এক নারীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সিকোয়েন্সিং করে ধরা পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট। সর্বশেষ ২৬ মার্চ এক নারীর নমুনা সংগ্রহ করে সিকোয়েন্সিং করা হয়। ঢাকা থেকে সংগৃহীত এই নমুনায়ও দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এছাড়াও দেশের ভোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, সিলেট, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সিকোয়েন্সিং করে পাওয়া গেছে 20B ও 20A নামে আরও দুটি ভ্যারিয়েন্ট।

দেশের অন্যান্য ল্যাবের নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যানুযায়ী, সিলেট থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সিকোয়েন্সিং করে পাওয়া গেছে ১৫টি যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট। ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সিকোয়েন্স করে এ সময় একটি যুক্তরাজ্য ও একটি ব্রাজিলের ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়। সর্বশেষ মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার ২৮টি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। যা মোট সংগৃহীত নমুনার ৬৫ দশমিক ১১ শতাংশ। এগুলো খুব দ্রুতই জিআইএসএইডে জমা দেওয়া হবে বলে ল্যাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

দেশে কোভিড-১৯ বিষয়ক জনস্বাস্থ্য কমিটির সদস্য ডা. আবু জামিল ফয়সাল সারাবাংলাকে বলেন, ‘নতুন স্ট্রেইন আসবে এটাই স্বাভাবিক। সব তো খোলা। তবে ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাওয়ায় সংক্রমণ বাড়ছে তা এখনই বলা যাবে না। ট্রান্সমিশন তো আমরা কখনও আটকাতে পারিনি। সংক্রমণ চলমান ছিল।’

জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষক ডা. শাহরিয়ার রোজেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস একটি m-RNA ভাইরাস এবং এটি স্বাভাবিক যে এখানে মিউটেশন হবে। অধিকাংশ মিউটেশনই উদ্বেগের কারণ না হলেও যখন স্পাইক প্রোটিনে মিউটেশন হয় এবং ভাইরাসের বিপদজনক চরিত্রগত পরিবর্তন হয় তখন সেটি বিশাল উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। করোনা ভাইরাসের এমন বিপদজনক ধরনের উদ্ভব ঘটেছে যুক্তরাজ্যে, সাউথ আফ্রিকা, ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফর্নিয়া, নিউইয়র্কে এবং আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। এদের মাঝে সবচেয়ে বিপদজনক হলো যুক্তরাজ্য, সাউথ আফ্রিকা এবং ব্রাজিলের ভ্যারিয়েন্ট। এই ধরনগুলোর সংক্রমণ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি।’

তিনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি করছে যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যের নতুন ধরনের সংক্রমণ ক্ষমতা শতকরা ৩০ থেকে ৫০ ভাগ বেশি এবং এই ধরণটি শতকরা ৫৫ ভাগ অধিক প্রাণঘাতী। ইউরোপজুড়ে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা এই যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্টের। ‘হঠাৎ সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি, কম বয়স্কদের মাঝে আক্রান্তের হার বৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান গুরুতর রোগীর সংখ্যা’- এ বিষয়গুলো বাংলাদেশে ‘নতুন স্ট্রেইন’ ছড়িয়ে পড়া নিয়ে আমাদের শঙ্কিত করে তোলে।”

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে হঠাৎ এই দ্রুত সংক্রমণের জন্য যুক্তরাজ্যের অধিক সংক্রমণক্ষম ভ্যারিয়েন্ট এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষের অনীহা- এই দুইটি বিষয়ই দায়ী বলে আমি মনে করি। তবে কিছুটা স্বস্তির বিষয় হচ্ছে যে, যুক্তরাজ্যের নতুন ধরনটির বিরুদ্ধে অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনটি কার্যকর। কাজেই সবাইকে ভ্যাকসিন নিতে হবে।’

ডা. রোজেন বলেন, “দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিলের ভ্যারিয়েন্টে প্রাপ্ত ‘ই৪৮৪কে’ মিউটেশনের উপস্থিতির কারণে এই নতুন ধরণ দুটির মাঝে প্রতিরোধ ক্ষমতা এড়ানোর কৌশল’ বিদ্যমান। সাউথ আফ্রিকার ভ্যারিয়ান্টটি অত্যন্ত বিপদজনক কারণ, সম্প্রতি একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফল থেকে জানা গেছে যে, সাউথ আফ্রিকার নতুন ধরনের বিপক্ষে অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন কার্যকর নয়। ব্রাজিলের ভ্যারিয়েন্টের বিপক্ষে টিকা কার্যকর হলেও এটি নিয়েও অনেক সংশয় রয়েছে। ব্রাজিলের ভ্যারিয়েন্টটি পূর্বে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত করতে পারে।”

তিনি বলেন, ‘একটি বিষয় মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ- করোনার বিপদজনক ধরণ যেকোনো দেশ থেকে আমাদের দেশে প্রবেশ করতে পারে। কেবল যুক্তরাজ্যের নতুন ভ্যারিয়েন্টটিই ছড়িয়ে গেছে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশে। এখন পর্যন্ত এই দক্ষিণ আফ্রিকার স্ট্রেইনটি ছড়িয়ে পড়েছে ৪৮টি দেশে এবং কমপক্ষে ২৫টি দেশে ব্রাজিলের ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে গেছে। একারণে বর্ডার কন্ট্রোল করা এবং কঠোরভাবে কোয়ারেন্টাইন বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।’

সম্প্রতি চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন তাদের পেইজে এই ভ্যারিয়েন্ট বিষয়ে জানিয়েছে, নভেল করোনাভাইরাসের কিছু কিছু ভ্যারিয়েন্টকে তাদের দ্রুত ছড়িয়ে পড়া, অতি সংক্রমণশীলতা এবং ভ্যাক্সিনকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা প্রভৃতি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। এদের মধ্যে বি.১.৩৫১ (20H/501Y.V2 বা দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট) ও বি.১.১.৭ ( 20I/501Y.V1 বা যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট) ইতোমধ্যে বিশ্বের অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে নভেল করোনা ভাইরাসের পরিবর্তন ও গতিপ্রকৃতি নজরদারির লক্ষ্যে চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচআরএফ) এখন পর্যন্ত নভেল করোনা ভাইরাসের ১৮৫টি নমুনার জিনোম সিকুয়েন্সিং সম্পন্ন করেছে।

এই প্রতিবেদনটিতে সাম্প্রতিক বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসের অতি সংক্রমণশীল বি.১.৩৫১ এবং বি.১.১.৭ ভ্যারিয়েন্টের ক্রমউপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যা দেশে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের হারের আকস্মিক বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত।

এ বিষয়ে জানতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ও করোনাবিষয়ক মুখপাত্র মোহাম্মদ রোবেদ আমিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সারাবাংলা/এসবি/পিটিএম


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button