রাজনীতি

বামপন্থী ও হেফাজতের মোদি বিরোধিতা এক না: বাম প্রগতিশীল জোট

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সরকারের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সকল বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) পল্টনস্থ মুক্তিভবনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড ও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা পরিদর্শন করে বাম জোটের নেতৃবৃন্দের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে দেশবাসীকে জানানোর জন্য এই সাংবাদিক সম্মেলনে আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়। এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি ওই দিনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এবং উস্কানিদাতাদের বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৬ ও ২৮ মার্চের মর্মান্তিক ও বর্বর ঘটনা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ ও স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় করতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা ৪ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া যায়। পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ বলেন, ঘটনাস্থলে যে ভয়াবহতা ও বিভাজ্যতা তারা প্রত্যক্ষ করেছেন, তা একাত্তরের পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরতার সঙ্গেই কেবল তুলনা করা যেতে পারে।

স্থানীয় জনসাধারণ এবং জেলা পরিষদের সচিবের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সচিব নিজে এসপি ডিসি সরাইলে বিজিবি ক্যাম্পে ফোন করে হেফাজতের তাণ্ডবের কথা জানান। কিন্তু দুঃখের বিষয় তার কথায় গুরুত্ব দেয়নি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন। যথাসময়ে পদক্ষেপ নিলে এত ক্ষয়ক্ষতি হত না। পরিদর্শনকালে বাম জোটে প্রতিনিধিদের মনে হয়েছে এ ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। কোনো দাহ্য পদার্থ ছাড়া এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড সম্ভব ছিল না।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, হেফাজতের তাণ্ডবের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশ এবং জামাত শিবিরের কিছু কিছু লোক অংশ নিয়েছে। এ কথা জোটের নেতৃবৃন্দকে স্থানীয় জনগণ জানিয়েছে।

বাম কংগ্রেসের জোট তাণ্ডবের সঙ্গে জড়িত হেফাজতকে দায়ী করেন। তারা বলেন, বাম গণতান্ত্রিক জোট মোদির আগমনের বিরোধিতা করেছে, কারণ মোদি ব্যক্তিগতভাবে সাম্প্রদায়িক এবং একটি সাম্প্রদায়িক দলের নেতা। ধর্মীয় মৌলবাদী হেফাজতে ইসলাম মোদির আগমনের বিরোধিতা করেছে সম্পূর্ণ মুসলিম সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে। বামপন্থীদের মোদির বিরোধিতা আর হেফাজতসহ অন্যান্য মৌলবাদীদের মোদির বিরোধিতা কোনোমতেই এক হতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জোট নেতৃবৃন্দ সরকারকে বিলম্বে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নিরপক্ষ সরকারে অধীনে নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় দুর্বার যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশিদ। উপস্থিত ছিলেন সাবেক সমন্বয়ক সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন ও ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/

সারাবাংলা/এএইচএইচ/এএম


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button