রাজনীতি

হেফাজত ছদ্মাবেশে তাণ্ডবে বিএনপি-জামাত, প্রতিরোধের ডাক আ. লীগের

নৃপেন রায়, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে ফিরে: অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের ছদ্মাবরণে বিএনপি-জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় ধর্মান্ধ উগ্রাবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের কৌশল নিয়েছে বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাই ধর্ম ব্যবসার নামে যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে উন্নয়ন অগ্রগতিতে বাধা তৈরি করতে চায়, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে চায়, তাদের প্রতিহত করার ডাক দিয়েছে দলটি। কেবল দলীয় নেতাকর্মী নয়, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় আওয়ামী লীগ এই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। সেখান থেকেই শীর্ষ নেতারা হেফাজতে ইসলামকে নিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া জানান।

দুপুর ১২টার দিকে সোনারগাঁও উপজেলা পরিদর্শনে যাওয়া কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও কেন্দ্রীয় সদস্য আনোয়ার হোসন। এসময় জেলা ও স্থানীয় আওয়ামী নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিনিধি দলটি দুপুরে সোনারগাঁও আওয়ামী লীগ কার্যালয় পরিদর্শন করে। সেখানে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বক্তব্য রাখেন। এরপর সোনারগাঁও এলাকায় হেফাজতের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন নেতাকর্মীর বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন পরিদর্শন দলের সদস্যরা। দুপুর ১টার পরে স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এর শুরুতে বক্তব্য দেন ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।

এর আগে, গত ৩ এপ্রিল বিকেলে সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টে এক নারীসহ হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ ছিল, সঙ্গী নারীর সঙ্গে মামুনুল হকের বৈধ কোনো সম্পর্ক নেই। এ ঘটনায় ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল হলে সন্ধ্যার দিকে হেফাজতে ইসলামের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ওই রিসোর্টে হামলা চালান। সেখান থেকে তারা মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যান। পরে সেই ঘটনার জের ধরে রাতেই জেলার সোনারগাঁওয়ের মোগরাপাড়ায় সোনারগাঁও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুর বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। তার ব্যবহৃত গাড়িটিও ভেঙে গুঁড়িয়ে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। পরে সোনারগাঁও এলাকায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের বাড়ি বেছে বেছে হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে।

বিজ্ঞাপন

হেফাজতের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এই এলাকাই পরিদর্শন করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এসময় তারা ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানান, সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করে হেফাজতের কর্মী-সমর্থকরা। স্থানীয় নেতারা বলেন, রাজনীতিতে মত ও পথের পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের আদর্শ বা মত পছন্দ না হলে সেই দলের নেতাকর্মীর বসতভিটা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাড়খাড় করে দেওয়ার ধ্বংসাত্মক রাজনীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সবকিছু শুনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুর্নবাসনে সহায়তার আশ্বাস দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান হোসেন সেদিনের ঘটনা তুলে ধরে বলেন, ‘সেদিন কিছু বুঝে ওঠার আগেই হেফাজতের লোকজন ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের সবার মাথায় ছিল টুপি। নারায়ে তকবির বলে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। যারা আওয়ামী লীগ-যুবলীগ করে, বেছে বেছে তাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে। হেফাজতের এমন তাণ্ডবে নিরুপায় ছিল সেদিন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্র থেকে সহনশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বলায় তারা সেদিন পাল্টা আক্রমণ করেননি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, গত ৩ এপ্রিল সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে তথাকথিত ধর্ম ব্যবসায়ী, যারা ইসলাম ধর্মের নাম করে বিভিন্ন সময়ে দেশের জনগণকে হেদায়েত করেন, সেই ধর্মব্যবসায়ীদের একজন মামুনুল হক, তিনি সেদিন একজন নারী নিয়ে জনগণের কাছে ধরা পড়েন। সেই সময় তার অনুসারীরা এসে রিসোর্ট ভাঙচুর করে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মামুনুল হকের অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ যারা করেছিলেন, তাদের ওপর পরে চড়াও হয়েছে হেফাজত। তাদের ঘরবাড়ি, দোকানপাঠ ভাঙচুর করেছে। এর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুর করেছে। এমনকি তাদের হামলা থেকে নারীরাও রেহাই পায়নি।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, আজ একজন মুসলমান হিসেবে অত্যন্ত লজ্জিত হয়ে বলছি, ইসলাম ধর্মের প্রচারক হিসেবে দাবি করে তিনিই আবার আরাম-আয়েশে সময় কাটানোর জন্য রিসোর্টে উঠেছিলেন। পরে অবশ্য এই ধর্ম ব্যবসয়ায়ীর পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেছেন অনেকেই।

বিজ্ঞাপন

হেফাজত ছদ্মাবেশে তাণ্ডবে বিএনপি-জামাত, প্রতিরোধের ডাক আ. লীগের

তিনি বলেন, আমরা খুব হতাশ হয়ে লক্ষ করলাম, তাকে তার অনৈতিক কাজ থেকে রক্ষা করার জন্য তার ধর্মভিত্তিক দল, হেফাজতে ইসলাম, তারা তার পক্ষে সাফাই গাইলেন। তারা বললেন যে এটা তার বৈধ স্ত্রী। এর মধ্য দিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছে জাতির সামনে— এই তথাকথিত ধর্ম ব্যবসায়ীদের কথা ও কাজের মিল নেই। তারা প্রচণ্ড মিথ্যা বলে অভ্যস্ত। এরা ধর্মের দোহাই দিয়ে হেন কোনো অপকর্ম নেই যেটা করতে পারতেন না— সেটা এবার প্রমাণিত হয়েছে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন হামলার ঘটনা তুলে ধরে হানিফ বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত— এদের অবস্থান মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান। এরা জাতির পিতাকে অশ্রদ্ধা করেছে, এরা জাতীয় পতাকে অসম্মান করেছে। এরা মূলত একাত্তরের পরাজিত শক্তির প্রেতাত্মা, যারা এখনো মনেপ্রাণে স্বাধীন বাংলাদেশ মেনে নিতে পারেনি। তারা এখনো পাকিস্তানের প্রেমে অন্ধ। এই তথাকথিত ধর্ম ব্যবসায়ীর দল হেফাজতের সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামী এবং আরেকটা অপশক্তি বিএনপি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

তিনি বলেন, এই বিএনপি বিভিন্ন সময়ে দেশটাকে ধ্বংস করেছে নাশকতা কর্মকাণ্ড করে, ক্ষমতায় থেকে লুটপাট করে। এরা রাজনৈতিকভাবে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো সুবিধা করতে না পেরে এখন এই হেফাজতকে সঙ্গে নিয়ে, জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে চায়। আমরা তাদের এই তাণ্ডব, এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।

যারা নাশকতামূলক এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে হানিফ বলেন, যারা এই হাটহাজারী-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-সোনারগাঁওয়ের ধংসাত্মক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত, প্রত্যেকের নাম-ঠিকানা খুঁজে বের করার জন্য আমাদের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যারা হামলায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান হানিফ। মামলা দায়ের করার পর আইনের ভিত্তিতেই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য দূর করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগসহ সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দলের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, এরপর থেকে এই ধর্ম ব্যবসায়ীর নামে হোক বা জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধাপরাধীর নামে হোক আর বিএনপির নামেই হোক, এই বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে উন্নয়ন অগ্রগতিদে যারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের আর বরদাশত করা হবে না। প্রত্যেকে জেলা উপজেলায় সরকারের প্রশাসনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সতর্ক থাকবে, প্রস্তুত থাকবে, প্রশাসনকে সহায়তা করবে এই সমস্ত সন্ত্রাসী নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডকে কঠোরভাবে দমন করার জন্য। জনগণকে নিয়েই এদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।

হানিফ আরও বলেন, হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নিজেদের দাবি করে। কিন্তু তাদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে দেখা যায়, তারা অরাজনৈকি ছদ্মাবরণে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে চায়। সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যারা দায়িত্বে আছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ তারা পদক্ষেপ নিয়েছেন। আমরা আশা করি, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দল ছাড়া এই দেশে যেন কেউ কেউ রাজনীতি করতে না পারে বা অবৈধভাবে অনৈতিক কার্যকলাপ কেউ চালাতে না পারে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করার জন্যে একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছিল। যারা স্বাধীনতাবিরোধী, যারা দেশবিরোধী, যারা পাকিস্তানের এজেন্ট, যারা আইএসআইয়ের এজেন্ট; সেই ধর্ম ব্যবসায়ী, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মেনে নেয়নি, যারা বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি, যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণে জননেত্রী শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রা সহ্য করতে পারে না— তাদেরই গাত্রদাহ হচ্ছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন, অগ্রগতিতে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সারাবিশ্বে বাড়ছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য বাংলাদেশ তালেবানি স্টাইলের দেশ পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সুদান, ইথোপিয়ার মতো রাষ্ট্র বানানোর লক্ষ্যে এই ধর্ম ব্যবসায়ী বিএনপি-জামায়াত ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করার চেষ্টা কছে। এই অপশক্তি দেশে অরাজকতা তৈরি করছে। যারা দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করেছে, সেই বিএনপি-জামায়াত অপশক্তি মিলে বাংলাদেশবিরোধী অতৎপরতায় নেমেছে।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, তারা থানা লুট, রেললাইন উপড়ে ফেলা, জ্বালিয়ে দেওয়া ফাঁড়িতে হামলা করার পাশাপাশি মানুষ হত্যা করেছে। তারা সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করেছে, শিশুদের ব্যবহার করেছে। এরা খুবই হিংস্র, অমানবিক ও দানবীয়। পাকিন্তানি হানাদার বাহিনীর চেয়েও জঘন্য, ভয়ংকর ও নির্মম। তারা নারী-পুরুষ, বসতঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান— কিছুই মানে না। তারা শুধু টার্গেট  করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে এটা নয়, তারা সরকারি সম্পত্তি, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা করেছে।

বাহাউদ্দিন নাছিম আরও বলেন, শুধু আওয়ামী লীগ নয়— সাংবাদিক, নাগরিক, বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিসহ সবাই সম্মিলিতভাবে এদের মোকাবিলা করতে হবে। এদের প্রতিহত করতে হবে, নিশ্চিহ্ন করতে হবে। এরা কিন্তু সুযোগ পেলে কাউকে ছাড়বে না। এরা বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চায়। এরা মানবতার শত্রু। এই অপকর্মীদের পক্ষে যে বিএনপি-জামায়াত পৃষ্ঠপোষকতা করছে, এরা সুনির্দিষ্ট‌ভাবে টার্গেট করেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর আঘাত হেনেছে।

তিনি আরও বলেন, এরা অপকর্ম করে বাংলাদেশকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে চায়। কিন্তু আমরা আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমিকে কোনোভাবেই এই অপশক্তির হাতে ছেড়ে দিতে পারি না। আমরা মনে করি— সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এদের মোকাবিলা করতে হবে। এদের শেকড় উৎপাটন করতে হবে। সময়ে এসেছে অপশক্তি এই ধর্ম ব্যবসায়ীদের মূলোৎপাটন করার।

প্রতিনিধি দলে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের আবুল হাসনাত শহীদ বাদল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাত, যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মাসুমসহ অন্যরা।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button