জাতীয়

বঙ্গোপসাগরে বৈশ্বিক কোনো জোটের শক্তি দেখতে চায় না বাংলাদেশ

এমএকে জিলানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ভূ-রাজনীতি পরিবর্তিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক একাধিক জোটের কর্মকাণ্ড এখন দৃশ্যমান এবং এই জোটগুলোর কার্যক্রমও এশিয়া কেন্দ্রিক। অন্যদিকে, ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশ চায় বাংলাদেশ আইপিসে (ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল) যোগ দিক। চীন চায়, বাংলাদেশ অন্য কোনোদিকে যেন না যায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে বৈশ্বিক কোনো জোটের শক্তি দেখতে চায় না। পাশাপাশি কোনো সামরিক জোটে যুক্ত হতে আগ্রহী নয়। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত জোটে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহি গত ২৭ এপ্রিল ঝটিকা সফরে ঢাকা এসেছিলেন। ওই সফরে তিনি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ যেন কোয়াডে যুক্ত না হয় এবং তাদের সঙ্গেই থাকে— চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঢাকা সফরে এমন অনুরোধই করেছেন।

চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঢাকা সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘উনার (চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী) সফর অনেকদিন আগে থেকেই ঠিক ছিল। কোভিডের কারণে সেটা বিলম্বিত হয়েছে। ফাইনালি কয়েক ঘণ্টার জন্য উনি এসেছেন এবং তাদের কথা বলে গেছেন। চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্য বলে গেছেন, আমরা শুনেছি।’ ইতোমধ্যে ভারতের সেনাপ্রধানও ঢাকা সফর করে গেছেন বলে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ঢাকার পক্ষ থেকে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে দেওয়া বার্তা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমাদের স্ট্যান্ডিং পজিশন, প্রিন্সিপাল পজিশন হচ্ছে- আমরা কোনো ধরনের ডিফেন্স দলে (সামরিক জোট) নেই। আমরা আমাদের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সবদলের সঙ্গেই আছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ফ্রি বে অব বেঙ্গল (বঙ্গোপসাগর) চাই। আমরা এসবে কোনো বাধা চাই না। বঙ্গোপসাগর আমরা অবাধ যোগাযোগ চাই এবং সেখানে বৈশ্বিক কোনো জোটের শক্তি দেখতে চাই না। আমাদের প্রিন্সিপল পজিশন এগুলো। আমরা এগুলোই তাদের জানিয়েছি। উনারা উনাদের বক্তব্য দিয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. তৌহিদ হোসেন সারাবাংলা’কে বলেন, ‘কোয়াড (চার দেশের সামরিক জোট) সৃষ্টির পর থেকে একটা টানাপোড়েন চলছে। সরাসরি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশকে কোয়াডে আনা যায় কি না, সে চেষ্টাই চলছে। চীনের জন্য এটা দুঃশ্চিন্তার বিষয় হতেই পারে। এখন পর্যন্ত আমার যা মনে হচ্ছে যে, এই ইস্যুতে সরকার এখনও সঠিক পথেই আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এখন আমাদের কোনো সামরিক জোটে যুক্ত হওয়া যাবে না। কারণ এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না যে, আমাদের যে কোর সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো সমাধানের জন্য এদের কোনো একটি পক্ষ জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বা চালাবে। এছাড়া আমাদের জোট নিরপেক্ষ নীতি এমনিতেও আছে। তারপরও কথা হচ্ছে যে, ভারত এবং চীন আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ পার্টনার। তাহলে ভূ-রাজনীতিতে যদি বিশাল কোনো পরিবর্তন হয় সেক্ষত্রে কখন কী হবে তা বলা কঠিন। কিন্তু যতদিন এমন কিছু না হচ্ছে, সেই পর্যন্ত আমাদের কোনো সামরিক জোটে না যাওয়াই ভালো। এবং আমরা যে কোনো জোটভুক্ত না, তা ধরে রাখা উচিত।’

বিজ্ঞাপন

আমরা চীনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গড়েছি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওপর চীনের চাপ কেমন হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার এই শব্দটা আমাদের সঙ্গে সবাই ব্যবহার করে। ভারতীয়রা আমাদের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার বলে, চীনও বলে। কিন্তু যখন বড় স্বার্থ এসে যায়, তখন তাদের কেউই নিজেদের স্বার্থ একটুখানি বিসর্জন দিয়ে আমাদের দিকে আসে না। তাই যে যত শব্দই ব্যবহার করুক না কেন, আমাদের নিজেদের স্বার্থ দেখেই চলতে হবে। আসলে এই মুহূর্তে কোনো জোটে যুক্ত না হওয়াটাই আমাদের স্বার্থের অনুকূল।’

সারাবাংলা/জেআইএল/পিটিএম


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button