আইন-বিচার

এসসিবিএ নির্বাচন: সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে ইলেকট্রনিক ভোটের পক্ষে মত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (এসসিবিএ) সভাপতি। তার মৃত্যুতে সমিতির সভাপতির পদ শূন্য হয়েছে। এ অবস্থায় সমিতির নতুন সভাপতি নির্বাচন নিয়ে চলছে আলোচনা। কিন্তু করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতিতে প্রায় ১০ হাজার সদস্যের সংগঠনটি নির্বাচন আয়োজন করলে তা সংক্রমণে ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ ও গণনার পক্ষে মত দিচ্ছেন আইনজীবী সমিতির বর্তমান ও সাবেক নেতা এবং আইন বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে খেয়াল রাখতেও তাগিদ দিচ্ছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা ডটনেট আয়োজিত আইন বিষয়ক নিয়মিত ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠান ‘সারাবাংলা লিগ্যাল চেম্বারস’ অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তারা এসব কথা বলেন। ‘সারাবাংলা লিগ্যাল চেম্বারে’র এই পর্বের আলোচনার বিষয় ছিল ‘এসসিবিএ ইলেকশনে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ ও গণনা’।

ব্যারিস্টার ইফ্ফাত গিয়াস আরেফিনের পরিকল্পনা ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত আলোচক হিসেবে যুক্ত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্যাহ, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মেহেদি হাছান চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট শাহ মনজুরুল হক। বিশেষ আলোচক হিসেবে যুক্ত ছিলেন ব্যারিস্টার অনীক রুশদ হক ও সমিতির সাবেক কোষাধক্ষ ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

ভার্চুয়াল আলোচনায় যুক্ত হয়ে বক্তারা বলেন, আবদুল মতিন খসরু মৃত্যুতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (এসসিবিএ) সভাপতির পদটি শূন্য হয়েছে। তাই সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রতিষ্ঠার সময় এসসিবিএ’র সদস্য সংখ্যা ছিল ৩০০ জন। বর্তমানে সারাদেশে সমিতির সদস্য সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৯ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এই বিশালসংখ্যক সদস্যদের নিয়ে করোনা সংক্রমণের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন হবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আব্দুল মতিন খসরু নিজে করোনা সংক্রমণ নিয়ে মারা গেছেন। সমিতির আর কোনো সদস্যের করোনায় আক্রান্ত হওয়া কাঙ্ক্ষিত নয়। ফলে সদস্যদের শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে ভোটগ্রহণের উদ্যোগ এড়ানো প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন হলে সারাদেশ থেকে সমিতির সদস্যদের ভোট দিতে ঢাকায় আসতে হবে। এতে তাদের নিজেদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, তাদের মাধ্যমে তাদের পরিবারের সদস্যদেরও সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। তাই করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করা প্রয়োজন। সমিতির সদস্যদের ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় ঘটিয়ে তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলার তাগিদও দেন তারা।

বিজ্ঞাপন

আলোচনায় ইমেইল বা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের প্রস্তাবও উঠে আসে। একইসঙ্গে এসব প্রযুক্তির নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা হয়। সেক্ষেত্রে দেশের আইটি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেন তারা। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ ও গণনার ক্ষেত্রে সংগঠনের গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় উঠে আসে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মেহেদি হাছান চৌধুরী বলেন, করোনা মহামারির আগে কেউ চিন্তাও করেনি যে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আদালতের কার্যক্রম চলতে পারে। এই করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর কিন্তু নিম্ন ও উচ্চ আদালতের অনেক কাজই ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে চলছে। অথচ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন কিন্তু সেই গতিতে এগিয়ে যেতে পারছে না।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ঢাকার সদস্যরা ইমেইলের মাধ্যমে ও জেলার সদস্যরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোট দিতে পারে। এ জন্য গঠনতন্ত্র সংশোধন করে যুগোপযোগী করা এবং সদস্যদের প্রযুক্তির বিষয়ে দক্ষতা তৈরিতে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, সুপ্রিম কোর্ট প্রযুক্তিতে যত এগিয়ে যাচ্ছে, এসসিবিএ সদস্যরা ততই পিছিয়ে যাচ্ছে। জেলা পর্যায়ের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করা সম্ভব হলে সমিতির ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পুরোপুরি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলেও মনে করছেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মেহেদি হাছান চৌধুরী।

বার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্যাহ বলেন, বর্তমানে সারাবিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে চলছে। সবাই গিয়ে যাচ্ছে। সেখানে আমরা কেন পিছিয়ে থাকব? গত বছরের নির্বাচনে সরাসরি ভোটগ্রহণের কারণে আমাদের অনেক বন্ধু করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। আমাদের নেতা আবদুল মতিন খসরুও করোনায় আক্রান্ত হন। পরে নেগেটিভ রিপোর্ট এলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই ভবিষ্যতে যদি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করা হয়, আমার মনে হয় আমাদের জেলার সদস্যরাও খুব সহজেই ভোট দিতে পারবেন। বিশ্বের অনেক স্থানে এভাবে ভোট হয়েছে। তাই আমি মনে করি, ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করা যেতে পারে। এতে খরচও অনেক কম।

বিজ্ঞাপন

ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি বলেন, আমরা আইটি বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেব। দরকার হলে কোনো আইটি প্রতিষ্ঠানকে আমরা নিরাপত্তাসহ সব বিষয়ে দায়িত্ব দেবো। সবাই যখন প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে, এ অবস্থায় আমাদেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।

ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের জন্য গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন উল্লেখ করে শফিক উল্যাহ বলেন, ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোট নেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন বিধিমালা পরিবর্তন করতে হবে। তা না হলে আমরা নতুন পদ্ধতিতে নির্বাচন করতে পারব না। কিন্তু এটা করতে হবে। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আগামী ২০২২-২৩ সাল পর্যন্ত করোনা পরিস্থিতি থাকবে। ফলে নিশ্চয়ই আমরা এমন পরিস্থিতিতে সশরীরে ভোট দিতে যাব না। নতুন করে আর কোনো সদস্যের করোনায় মৃত্যু হোক, তা আমরা চাই না। সেক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং পদ্ধতির দিকে আমাদেরকে যেতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ এপ্রিল (বুধবার) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল মতিন খসরু। করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ১৬ মার্চ থেকে সিএমএইচে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইইসিইউতে) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এতে করে এসসিবিএ’র সভাপতি পদটি শূন্য হলে নতুন করে নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কিন্তু চলমান করোনার পরিস্থিতির কারণে ভোটগ্রহণে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

সারাবাংলা/এনএস/টিআর


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button