শিক্ষা

ভিসা জটিলতায় হতাশ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষাপ্রত্যাশীরা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: চলমান করোনা সংক্রমণ ও লকডাউন পরিস্থিতির কারণে উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক মেধাবৃত্তি পাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। চলমান ‘লকডাউনে’র কারণে এসব শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত ভিসা সেবা পাচ্ছে না। এতে উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যাওয়া নিয়েই অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে তিন হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে উচ্চ শিক্ষা ও উন্নত গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানসূচক মেধাবৃত্তি, ফেলোশিপ নিয়ে পড়তে যান। এই মেধাবীরা এখন করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ও লকডাউনের কারণে ভিসা জটিলতায় অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সম্মুখীন।

চলমান পরিস্থিতিতে সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর মধ্যেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের জরুরি সেবা চালু রখেছিল, শিল্প-কারখানা, ব্যাংক, আন্তঃনগর গণপরিবহনও চালু ছিল। তবে বাংলাদেশে আমেরিকান দূতাবাস তাদের পূর্বনির্ধারিত সকল ভিসা ইন্টারভিউ বাতিল করে দেয়।

বিজ্ঞাপন

একইভাবে নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউনেও দূতাবাস সব ধরনের ভিসা ইন্টারভিউ বাতিল করে দিয়েছে এবং নতুন করে কোনো আবেদনও গ্রহণ করছে না। এতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

একাধিক শিক্ষার্থী সারাবাংলাকে জানান, যেসব শিক্ষার্থীরা এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামার ২০২১ সেশনে সুযোগ পেয়েছেন, তাদের ক্লাস শুরু হবে আগামী মে মাসের মাঝামাঝি থেকে। আর যারা ফল ২০২১ সেশনে সুযোগ পেয়েছেন, তাদের ক্লাস শুরু হবে জুলাইয়ের শেষ ভাগ থেকে। এ জন্য কমপক্ষে একমাস থেকে ১৫ দিন আগে ভিসা নিশ্চিত করা জরুরি। এই মুহূর্তে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত, শ্রীলংকা, এমনকি চীনেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের ভিসা কার্যক্রম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চালু রাখা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে এফ ক্যাটাগরির স্টুডেন্ট ভিসা দিতে দূতাবাস এখনো কোনো বিশেষায়িত কর্মসূচি হাতে নেয়নি।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীরা আরও বলছেন, একই কারণে গত বছর ফল ২০২০ সেশনের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভিসা না পেয়ে তাদের নির্ধারিত সেশনে অংশ নিতে পারেননি। অনেকের ভর্তি প্রস্তাব ও স্কলারশিপ/ফেলোশিপ বাতিল হয়ে গেছে এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভর্তি ও স্কলারশিপ এ বছর স্প্রিং সেশন (জানুয়ারি ২০২১) ও ফল ২০২১ সেশনে পেছানো হয়। এবার তারা আবারও একই পরিস্থিতির সম্মুখীন। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানই পর পর দুই বছর একই কারণে একই শিক্ষার্থীর জন্য সেশন পেছাবে না।

শিক্ষার্থীরা বলেন, সংকট নিরসনে উচ্চ শিক্ষাপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে একসঙ্গে হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। তাদের প্রতিনিধি দলকে আশ্বাসও দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। ঢাকার আমেরিকান দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে, সরকার থেকে কোনো ধরনের অনুমতি না পেলে তারা এ ব্যাপারে কোনো সমাধান করতে অপারগ।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গ্র্যাজুয়েট বলেন, ‘আমি দেশের একটি স্বনামধন্য বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলাম। বাংলাদেশের শিল্প ব্যবস্থাপনার পশ্চাৎপদতা ও উন্নত প্রযুক্তির অভাব অনুধাবন করে আমি এ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। গত বছর একাধিক আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও সময়মতো ভিসা না পাওয়ায় আমার স্কলারশিপ বাতিল হয়ে যায়। হতাশা ভুলে এ বছর আমি আবার আবেদন করি এবং এবারও একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি স্কলারশিপ পেয়েছি। এবারও কি আমাকে একই পরিণতির শিকার হতে হবে!’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে আবেদন ফি ও স্কোর সাবমিশন বাবদ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়, দিতে হয় জিআরই, টোফেল, আইইএলটিএস-এর মতো পরীক্ষা, যেগুলোর প্রতিটির ফি ১৭ হাজার টাকা করে এবং এগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে এ বছরই। এবারও যদি সব ভেস্তে যায়, তাহলে আমার ক্যারিয়ার, স্বপ্ন, জীবন সবই ব্যর্থ হয়ে যাবে।’

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিয়ে সারাবাংলা’র পক্ষ থেকে ঢাকার আমেরিকান দূতাবাস যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, সরকার ঘোষিত লকডাউনের কারণে তারা ভিসা আবেদন বন্ধ রেখেছে। এ বিষয়ে দূতাবাসের ওয়েবসাইটের এই bd.usembassy.gov/visas/ লিংক থেকে বিস্তারিত জানা যাবে।

ঢাকার আমেরিকান দূতাবাস আরও জানিয়েছে, সমস্যাটি সম্পর্কে দূতাবাস অবগত রয়েছে। তারা সমাধানের চেষ্টা করছে। এই মুহূর্তে কারও অতি জরুরিভিত্তিতে ভিসার প্রয়োজন হলে দূতাবাসের এই www.ustraveldocs.com/bd/bd-niv-expeditedappointment.asp লিংক থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পূরণ করে আবেদন করা যাবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, তারাও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। সমাধানের চেষ্টা করছেন।

সারাবাংলা/জেআইএল/টিআর


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button