সারাদেশ

ভৈরব-কুলিয়ারচরে একদিনে ৫ খুন

লোকাল করেসপন্ডেন্ট

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের ভৈরব ও কুলিয়ারচরে পৃথক পৃথক ঘটনায় একদিনে পাঁচটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ভৈরবে চার জন ও কুলিয়ারচরে একজন খুন হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলেন— ফারুক খাঁন, লিটন মিয়া, শরীফ মিয়া (২৫), মগবুল মিয়া (৪০) ও পাভেল (২২)। এর মধ্যে একাধিক ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার সকালে ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ গাজিরটেক এলাকায় মহাসড়কের পাশ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাত এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে স্বজনরা খবর পেয়ে তার মরদেহ শনাক্ত করে।

বিজ্ঞাপন

স্বজনরা জানান, নিহতের নাম শরীফ মিয়া। শহরের ঘোড়াকান্দায় একটি বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। দুই দিন আগে তিনি বিভাটেক (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) নিয়ে কাজে বের হয়ে আর বাড়িতে ফিরে আসেননি।

এদিকে, আগা নগরের লুন্দিয়া ও খলাপাড়ায় জমির ধান কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তিন ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ হয়। এতে খলাপাড়া গ্রামের মোতালিব মিয়ার ছেলে মকবুল ও লুন্দিয়া গ্রামের আ. খালেকের ছেলে পাভেল (২২) নিহত হন। সংঘর্ষে আহত হন আরও ১২ জন। আহতদের মধ্যে পাঁচ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার সন্ধ্যায় কুলিয়ারচরের লালপুরে আম কুড়ানোকে কেন্দ্র করে লিটন মিয়ার বাড়ির শিশুদের সঙ্গে মিরারচর গ্রামের মেরসি মিয়ার বাড়ির শিশুদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরই জের ধরে শনিবার ভোরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। প্রতিপক্ষের হামলায় আব্বাছ মিয়ার ছেলে লিটন মিয়ার মৃত্যু হয়। এসময় ‍দুই পক্ষের ১০/১২টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে, শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর ভৈরব প্রান্তের টোল প্লাজার অদূরে মন্দিরের কাছে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ফারুক খান নামে একজন নিহত হন। ফারুক ভৈরব পৌর শহরের চন্ডিবের খা বাড়ির সালাম খা’র ছেলে।

বিজ্ঞাপন

পরিবার ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ফারুক সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে কর্মস্থল আশুগঞ্জে যান। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচল না করায় কাজ শেষে রাতে পায়ে হেঁটে ভৈরবের পথে রওনা করেন। সড়ক সেতুটি অতিক্রম করে ভৈরব টোল প্লাজার ৫শ গজ সামনে পৌঁছালে কয়েকজন ছিনতাইকারী তার ওপর হামলা করেন এবং এলোপাতারি ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন জানান, গত একদিনে বেশ কয়েকজন হত্যার শিকার হয়েছেন। হাইওয়ের পাশ থেকে একজনের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে একজনের নিহত হওয়ার খবরও পেয়েছি। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/টিআর


Source link

আরো সংবাদ

Back to top button